জাতীয়

বছরজুড়ে আলোচিত মহামারি ও ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে পাঠ্যপুস্ত‌কে

২০২০ সাল জুড়ে দুটি আলোচিত শব্দ ‘মহামারী করোনা’ ও ‘ধর্ষণ’। বিষয় দুটি নিয়ে সচেতনতা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতেই এই অন্তর্ভুক্তির প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এরইমধ্যে একটি প্রস্তাবনাও তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই মহামারী শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী আঘাত হানে। ২০২০ সালের পুরো বছরটিই অজানা এক আতঙ্কে কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের জীবন থেকে একটি শিক্ষাবর্ষ  হারিয়ে গেছে। এরপর বছরের শেষ ভাগে এসে দেশব্যাপী সর্বাধিক গুরুত্ব পায় ধর্ষণের বিষয়টি। শিক্ষার্থীরাই বেশির ভাগ এর শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় পাঠ্যপুস্তকে করোনা এবং ধর্ষণ ইস্যু দু’টিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মহামারি ও ধর্ষণ সম্পর্কে আরো বেশি জানতে এবং সচেতনতা বাড়াতেই বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী ২০২১ সালের শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচিতে করোনাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও পরের শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে করোনাভাইরাস নামে পৃথক একটি অধ্যায় শিক্ষার্থীদের সিলেবাসের মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

তবে বিষয়গুলো কোন শ্রেণীতে বা একাধিক শ্রেণীর সিলেবাসেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা সেটি নিয়ে বিশ্লেষণ করার দরকার আছে। আর এজন্য প্রয়োজনে আরো কিছু দিন সময় নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

এ দিকে দেশে যখন ব্যাপকভাবে ধর্ষণ বেড়ে গেছে তখন শিক্ষামন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই ধর্ষণ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক কারিকুলামে এ সংক্রান্ত সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ‘রুম টু রিড’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় মন্ত্রী এমন কথা জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মানুষ গড়তে শিক্ষা হচ্ছে বড় হাতিয়ার। শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আমরা সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, বর্তমানে নারী ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেককে মিলে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হবে। এর জন্য সমাজে সতেচনতা সৃষ্টি করতে হবে। নারীর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

সম্পর্কিত নিউজ