ইসলাম ও জীবন

পবিত্র জুম্মাবারের প্রস্তুতি ও ফজিলত

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুম্মার দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিন বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল করা হয়।কোরআন হাদিসে এ দিনের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে।

বছরে দুটি ঈদ উদযাপন করার জন্য আমরা মুসলিমরা কত আগ্রহে, কত আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকি। ঈদ-উল-ফিতর আসে দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনের শেষে আনন্দের দিন হয়ে। পবিত্র হজ্জ পালন আর কুরবানীর ত্যাগের মহীমায় উজ্জল হয়ে উঠে পবিত্র ঈদ-উল আযহা। হজ্জগামীদের কত আনুষ্ঠানিকতা, কুরবানীর পশু কেনার জন্য হাটে যাওয়া; সবই ঈদকে ঘিরে।

ঈদ উদযাপনে আমরা মুসলিমদের নতুন নতুন বা পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধানের সংস্কৃতি আছে, পরিবারের সবার জন্য শপিং করি, কত বাহারী খাবারের আয়োজন করি, কত শত প্রস্তুতি, -সবই পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে। ঈদ হল আনন্দের দিন, খুশির দিন।

শুক্রবার হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। সাপ্তাহিক এই ঈদের জন্যেও নিতে পারি দরকারী সব প্রস্তুতি। ঈদের নামাজের ন্যায় জুম্মার নামাজেরও আছে নানা ফজিলত। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন ও জুম্মার নামাজের গুরুত্ব স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনও তুলে ধরেছেন।

পবিত্র কোরআনের ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করল, অতঃপর জুম্মা পড়তে এলো এবং মনোযোগ দিয়ে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুম্মা ও (আগামী) জুম্মার মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৭)

জুম্মার নামাজের জন্য, সাপ্তাহিক ঈদ উদযাপনের জন্যও আমরা কিছু প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে কামিয়াবের আশায় সফল কাম হলে হতে পারি। প্রথম গোসল করে পরিচ্ছন্ন পোষাক পরিধান করে আতর মেখে একটু দ্রুত মসজিদে যেতে পারি। জুম্মার দিনে জটজলদি মসজিদে যাওয়ায় সোয়াব আছে। এই বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুম্মার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

জুম্মাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪)

পবিত্র এই দিন কেমন করে এল? প্রথম কবে কোন পরিস্থিতিতে জুম্মার নামাজ আদায় হয়েছিল তার রয়েছে ইতিহাস। প্রথম হিজরি সনে মহানবী (সা.) মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন। নবী (সা.) এর মদিনায় পৌঁছার দিনটি ছিল ইয়াওমুল আরুবা (শুক্রবার)। সেদিন তিনি বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় গেলে জোহর নামাজের সময় হয়ে যায়। সেখানে তিনি জোহর নামাজের পরিবর্তে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুম্মার নামাজ।

তবে জুম্মার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আরো পরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মদিনায় যাওয়ার পর এবং জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে একবার মদিনার আনসার সাহাবিরা আলোচনায় বসেন। তারা বললেন, ইহুদিদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট রয়েছে, যে দিনে তারা সবাই একত্র হয়। খ্রিস্টানরাও সপ্তাহে একদিন একত্র হয়। সুতরাং আমাদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যে দিনে আমরা সবাই সমবেত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করব, নামাজ আদায় করব।

জুম্মার নামাজের খুদবাহ শোনার ব্যাপারেও হাদিসে জোরারুপ করা হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করল, অতঃপর জুম্মা পড়তে এলো এবং মনোযোগ দিয়ে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুম্মা ও (আগামী) জুম্মার মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৭)

সাপ্তাহিক ঈদের দিনের ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য আসুক রহমত হয়ে। সহজ সরল পথের পাথেয় হয়ে। আমিন!

সম্পর্কিত নিউজ