আন্তর্জাতিক

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার সত্যতা পাওয়া যায়নি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়ে কয়েকটি দেশে কারো কারো ক্ষেত্রে রক্ত জমাটের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এই টিকা প্রয়োগ বন্ধের কোনো কারণ দেখছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বরং এই টিকাকে ‘দুর্দান্ত’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার জেনেভায় সংস্থাটির অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাকসিনটির বিষয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভ্যাকসিন বিষয়ক কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যানুযায়ী, ভ্যাকসিন নেয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। কারো কারো ক্ষেত্রে এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার পর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্র্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রয়োগ স্থগিত করে দিয়েছে নরওয়ে, ডেনমার্ক, ইতালি, আইসল্যান্ড, ইতালি থাইল্যান্ড। তবে রক্ত জমাটের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাগনাস হেউনিকে টুইটারে লিখেছেন, ভ্যাকসিনের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগেভাগেই এটি নিয়ে কাজ করছি। এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ভ্যাকসিন প্রয়োগ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার, মডার্না, রাশিয়ার স্পুতনিক ও চীনের সিনোভ্যাক। এসবের মধ্যে সংরক্ষণ ও দামের দিক থেকে সবচেয়ে সহজলভ্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন।

এই ভ্যাকসিনটি বেশির ভাগই উৎপাদিত হচ্ছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে। ‘কোভিশিল্ড’ নামে তাদের উৎপাদিত ভ্যাকসিন কিনেছে বাংলাদেশ, প্রয়োগও চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়ে কারো কারো ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেলেও বিষয়টি খুব গুরুতর হিসেবে দেখছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জেনেভায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, অন্য যেসব ভ্যাকসিনের ব্যবহার চলছে সেগুলোর মতো অ্যাস্ট্রাজেনেকাও দুর্দান্ত একটি ভ্যাকসিন। মৃত্যু নিয়ে আমরা তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেছি। ভ্যাকসিন নেয়ার ফলে কারো মৃত্যু হয়েছে আজ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের প্রয়োগ চলবে কিনা, এমন প্রশ্নে মার্গারেট বলেন, হ্যাঁ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের ব্যবহার আমাদের চালিয়ে নেয়া উচিত।

তিনি জানান, ভ্যাকসিন নিয়ে নিরাপত্তার ইস্যুটি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। অবশ্য এখন পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন ব্যবহার বন্ধ করার কোনো নমুনা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুসেরও একই কথা। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ টিকার ৩৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব ভ্যাকসিনের কারণে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনও জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সম্পর্কিত নিউজ