উদ্যোক্তাদের গল্প

স্বপ্ন পূরণে মৌমিতার স্বপ্নের পথচলা

বরিশালের মেয়ে মৌমিতা হোসেন, পড়াশোনা সুবাদে বর্তমানে ঢাকাতে থাকেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেনরশিপ বিভাগ হতে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি একই কলেজের একই বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি বিজনেস প্লাটফর্ম। প্রজন্ম ২৪ কে তিনি তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প পাঠিয়েছেন।

মৌমিতা বলেন, ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল নিজে কিছু করব, নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হব। ছোট বেলায় ইচ্ছে ছিল নিউজ প্রেজেন্টার হবার কিন্তু সেটা কোনো কারণো হয়ে ওঠা হয়নি। কিন্তুু কখনো হাল ছাড়ি নি কিংবা কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করিনি। আমি এটা সবসময় বিশ্বাস করতাম যে স্বপ্ন দেখতে জানে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও করতে জানে। কারন স্বপ্ন দেখা থেকেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।

মার্চ মাসে কলেজ করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাবার পর বাসায় শুয়ে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একদিন মাথায় প্ল্যান আসলো অনলাইনে মেয়েদের ড্রেস নিয়ে ব্যবসা করলে কেমন হয়। কারণ করোনার মধ্যে কেউ সেরকম মার্কেটে গিয়ে কেনা কাটা করতে পারেনা। কিন্তুু সেই মুহূর্তে আমার কাছে সেরকম টাকা ছিল না অল্প কিছু ছিল। কারণ যেহেতু আমি স্টুডেন্ট তাই হাতে সবসময় টাকা থাকত না। পরে আমি আমার বোনদের সাথে আলোচনা করে এবং তাদের সাহায্যর ও অনুপ্রেরণায় একটা অনলাইন পেইজ খুললাম এবং কিছু থ্রি পিস আনলাম। দেখলাম ভালোই চলছে, অর্ডার ও ভালই পাচ্ছি। এবং এই থেকেই আমার উদ্যোক্তা হবার স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু হবে।

আমার পেইজের নাম ‘পঞ্চয়িণী’। বর্তমানে আমি মেয়েদের থ্রি পিস, কুর্তি, প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে কাজ করছি। তবে একটা কথা না বললেই নয় আমার এই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন যাত্রায় আমি কিন্তু রাতারাতি উদ্যোক্তা হয়ে যায়নি। এর জন্য আমার অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমি পরিবার থেকে আমার বোনদের সহযোগিতা ছাড়া অন্য কারো সহযোগিতা পাইনি প্রথমে।আমার বাবা মা আমার উদ্যোক্তা হবার পিছনে তেমন কোন উৎসাহ দেয়নি। তারা শুধু বলত এসব করে কাজ নাই পড়াশুনা করো একটা চাকরি করো কাজে লাগবে। এসব করে তোমার শুধু শুধু টাকাটা অপচয় হবে আর কিছুই না।ইদানিংতো সবাই এসব ব্যবসা করছে কতজনই বা লাভবান হচ্ছে। তখন আমি বলতাম জীবনে ঝুঁকি না নিলে কখনো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। পরে আমি তাদের অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে আমি আমার যাত্রা শুরু করি। এখন আমি আমার পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছি এবং তারা আমার কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। আমি মনে করি যেকোন কাজেই বাঁধা, বিপত্তি আসবেই সেগুলো কে জয় করেই সামনের দিকে এগুতে হবে।

যেহেতু দিন দিন নারী উদ্যোক্তা বেড়েই চলছে তাই নিজেকে টিকিয়ে রাখাটাও আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। কত টাকা পুঁজি আছে বা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে তা নয়, বরং একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় মূলধন তার নতুন কিছু করতে চাওয়ার ইচ্ছা। এটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে। তাহলেই এই প্রতিযোগিতা পূর্ণ বাজারে টিকে থাকা সম্ভব হবে।

সবশেষে বলতে চাই, উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই থাকতে হবে আত্নবিশ্বাস, ধৈর্য, পরিশ্রম ও সুন্দর একটি স্বপ্ন। যেটা আমার মধ্যে ছিল,ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি বিশ্বাস করি ‘পঞ্চয়িণী’ কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব এবং সৎ ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

এই উক্তিটি আমাকে সবসময় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

“All our dreams can come true, if we have the courage to pursue them.”

আপনারা আমার পাশে থাকবেন এবং আমার জন্যে দোয়া করবেন।

মৌমিতা হোসেন

স্বত্বাধিকারী,

পঞ্চয়িণী

সম্পর্কিত নিউজ