উদ্যোক্তাদের গল্প

চিকিৎসকের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প স্বপ্নবাজ তরুণীর

শরিয়তপুরের মেয়ে মারজানা অর্ণি, তবে চাকরির সুবাদে বর্তমানে ঢাকাতেই থাকেন। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করে বর্তমানে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেছেন তিনি।পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরির প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি বিজনেস প্লাটফর্ম। প্রজন্ম ২৪ কে তিনি তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প পাঠিয়েছেন।

মারজানা বলেন, ছোট থেকে স্বপ্ন দেখেছি একান্ত নিজের কিছু করার, অন্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার।ব্যবসায়ী বাবার মেয়ে হবার সুবাদে আগ্রহটা আরো প্রবল ছিল। ছোট থেকেই জামা কাপড় এর প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিলো। নতুন নতুন ডিজাইন করে জামা পড়তে ভাল লাগত। এজন্য অনলাইনে মেয়েদের পোশাক নিয়ে কাজ করা শুরু করেছি। আমার এখানে সব ধরনের স্টিচ কুর্তি, ওয়ান পিস এবং থ্রি পিস পাওয়া যায়।

এখন অনলাইন পেইজ চালাই এবং ভবিষ্যতে বুটিক শপ দেয়ার স্বপ্ন দেখি। যেহেতু আমি যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছি এখানে অন্য কিছুর জন্য সময় বের করাটা কষ্টকর তাই এতদিন করব করব করেও আসলে কিছু করা হচ্ছিলো না। অবশেষে আমার হাজবেন্ডের অনুপ্রেরণায় ১ মাস আগে শুরু করলাম আমার স্বপ্নের “Fountain gallery.” ফেসবুক পেইজ ওপেনের সাথে সাথেই অর্ডার আসে আলহামদুলিল্লাহ। প্রথমে পরিবারের মানুষই কাস্টমার হয়” পণ্যের মানের সাথে কোন আপোষ নয়” এটাই আমার উদ্যোগের মূল নীতি। এভাবে পরিচিত দের থেকে জেনে তাদের পরিচিত রা এবং তাদের পরিচিত রা এভাবেই একটা চেইনের মাধ্যমে আমাদের উদ্যোগের কাস্টমার বেড়ে চলছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে পণ্যের গুণাগুণ বজায় রেখে এবং কাস্টমার সেটিসফেকশান অর্জনের প্রচেষ্টায়।

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণে নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করছি। আমার উদ্যোগ নিয়ে আমার স্বপ্ন হল সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সেবা দেয়া। আর আমার উদ্যোগ যেন হয় অনেক কর্মহীন বেকার মানুষের কর্মস্থল। সব কাজের শুরুর দিকটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। আমাকেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে এবং এখনও শুনছি। একে তো মেয়ে তার উপর ডাক্তার। কিছু কথা এরকম থাকে- “এত কস্ট করে ডাক্তারি পড়েছ কি কাপড় বেচার জন্য”, “বাবা-মা এর তো টাকা আছে তোমার কিসের এত অভাব? “, “এগুলো করে ছেঁচড়া পোলাপাইনে৷” কিন্তু এগুলো আমাকে থামাতে পারেনি। মনের ভেতর আরও জিদ বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু করে দেখানোর। আমি নিজেকে আরও সাহসী করে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমার উদ্যোগের সফলতা অর্জনের মাধ্যমে। সবার কাছে একটাই চাওয়া আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং পাশে থাকবেন। আর কখনও হেরে যাবেন না সব কিছুর উর্ধ্বে আপনার আমার চেষ্টা ও একাগ্রতা। সফলতা আসবেই ইনশাআল্লাহ হয়ত কিছুদিন আগে অথবা পরে।

মারজানা অর্ণি

স্বত্বাধিকারী, Fountain Gallery

সম্পর্কিত নিউজ