উদ্যোক্তাদের গল্প

তরুণ উদ্যোক্তা মারজিয়া-ফুয়াদের স্বপ্নের পথচলা

নেত্রকোণার মেয়ে মারজিয়া খন্দকার মোনা এবং টাঙ্গাইলের ছেলে মোহাম্মদ ফুয়াদ ইবনে জামান, পড়াশোনার সুবাদে দুজনই বর্তমানে ঢাকা থাকেন। মারজিয়া পড়ছেন ইডেন মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে, অন্যদিকে ফুয়াদ পড়ছেন ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় দুই জন মিলে গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি বিজনেস প্লাটফর্ম। মারজিয়া প্রজন্ম ২৪ কে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প পাঠিয়েছেন।

মারজিয়া বলেন, কাজ করছি টাঙ্গাইল এর তাঁতের শাড়ি ও কসমেটিকস নিয়ে। বর্তমান যুগে মেকআপ করেনা বা পছন্দ না এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারি মেকআপ না করলেও দৈনন্দিন জীবনে টুকটাক লিপস্টিক কাজল ইত্যাদি প্রসাধনী সবাই ব্যবহার করে থাকি।

কিন্তু কমদামি ফেইক প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার এর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি। তাই অথেনটিক কসমেটিকস প্রোডাক্ট সন্ধানে মার্কেট এনালাইসিস শুরু করি। এবং এভাবেই মেকআপ ও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার চিন্তা মাথায় আসে। আমার কাজের দ্বারা সব মেয়েদের কাছে অথেনটিক অরিজিনাল প্রসাধনি পৌঁছে দিতে চাই। এবং ফেইক ও নিন্মমানের পণ্যের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থেকে স্কিন এর যে মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়েই আমি ও আমার পার্টনার মোহাম্মদ ফুয়াদ ইবনে জামান আমাদের উদ্যোগ এর সিদ্ধান্ত নেই।

যথারীতি অল্প কিছু অথেনটিক ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করি। এ বছরের শুরুর দিকে ফেব্রুয়ারি তে আমাদের উদ্যোগের প্লাটফর্ম হিসেবে ফেইসবুক পেইজ ওপেন করি “Masmo Gallery Bd” নামে।

ফেসবুক পেইজ ওপেনের সাথে সাথেই অর্ডার আসে। প্রথমে পরিচিতরাই কাস্টমার হয়। বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের মধ্যে মেকআপ নিয়ে আমার দক্ষতা ও পারদর্শিতার একটা সুনাম ছিলো যা উদ্যোগের ক্ষেত্রে কাজে লাগে।
পণ্যের গুণাগুণ ও পণ্য সম্পর্কে সঠিক সত্য উপস্থাপনা ও পণ্য হাতে পেয়ে ক্রেতার সন্তুষ্টি লাভ এর উপর আমি গুরুত্বারোপ করি।
এভাবে পরিচিত দের থেকে জেনে তাদের পরিচিত রা এবং তাদের পরিচিত রা এভাবেই একটা চেইনের মাধ্যমে আমাদের উদ্যোগের কাস্টমার বেড়ে চলছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে পণ্যের গুণাগুণ বজায় রেখে এবং কাস্টমার সেটিসফেকশান অর্জনের প্রচেষ্টায়।
আর এভাবেই ক্রেতারাই আমার উদ্যোগের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার জায়গাটা দখল করে নিয়েছে।

উদ্যোক্তা হয়ে উঠার স্বপ্ন পূরণে নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করছি। আমার উদ্যোগ নিয়ে আমার স্বপ্ন হলো মানসম্মত প্রসাধনী যেন একদিন নিজ দেশেই তৈরি করতে পারি। বিদেশ থেকে যেনো আর প্রসাধনী আমদানি করতে না হয়। আর টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি যেনো দেশের গন্ডি পেরিয়ে আমাদের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আর আমার উদ্যোগ যেন হয় অনেক কর্মহীন বেকার মানুষের কর্মস্থল।

সব কাজের শুরুর দিকটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। আমাদের উদ্যোগেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। মেয়ে হিসেবে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠতে যে সকল সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় আমাকেও সে সকল কিছুর সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আশেপাশের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও কটু কথা, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এসব কিছু আমাকে কখনও ভাঙতে পারেনি। আমি নিজেকে আরও সাহসী করে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই৷ আমার উদ্যোগের সফলতা অর্জনের মাধ্যমে।

সবশেষে সবার কাছে একটাই চাওয়া আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আর সকলকে বলব কখনও হেরে যাবেন না, সব প্রতিকূলতার উর্ধ্বে আপনার আমার চেষ্টা ও একাগ্রতা।

মারজিয়া খন্দকার মোনা ও
মোহাম্মদ ফুয়াদ ইবনে জামান
স্বত্বাধিকারী,
Masmo Gallery Bd

সম্পর্কিত নিউজ