উদ্যোক্তাদের গল্প

স্বপ্ন পূরণে দুই সহপাঠীর দীপ্ত পথচলা 

নোয়াখালীর মেয়ে হুমায়রা আনজীর এবং ঢাকার মেয়ে নুসরাত জাহান মৌ, দুজনই পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে। দুই সহপাঠী মিলে গড়ে তুলেছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি বিজনেস প্লাটফর্ম। প্রজন্ম ২৪ কে হুমায়রা তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প পাঠিয়েছেন।

হুমায়রা বলেন, আমি এবং আমার বান্ধবী(নুসরাত জাহান মৌ) আমরা দুজনে সহপাঠী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম থেকেই আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। আমাদের কয়েকজন সহপাঠীকে দেখতাম অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে। বিশেষ করে হাতে তৈরি গয়নার কাজ গুলো দেখে খুব ভালো লাগতো। কিন্তু তখনো ভাবিনি যে আমিও এই ব্যবসা শুরু করব।

খুব শখ করে নিজের জন্য কয়েকটা গয়না বানিয়েছিলাম কিন্তু সেগুলো আর আমার পড়া হয়নি। আমার আত্নীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশি সব কিনে নিয়ে গিয়েছিল। এর পরেই আমাদের পথ চলা শুরু। গয়না বানানোর নানা উপকরন সংগ্রহ করতে থাকি আমি আর আমার বান্ধবী মৌ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস তারপর টিউশন, তারপর রাত জেগে কাজ চলতে থাকলো। খুব সর্তকতার সাথে যত্ন নিয়ে কাজ করতাম। কতশত ভাবনা যে মিশে থাকে আমাদের একেকটা কাজে। আর যখন ক্রেতা আমাদের গয়না পরে আনন্দিত হয় তখন আমাদের সব কষ্ট সার্থক হয়।

আমাদের দুজনের পরিবার আমাদের মূল অনুপ্রেরণা নুসরাত জাহান মৌ এর মা এবং তার যৌথ পরিবারের সবাই যেমন উৎসাহ দিয়েছে তেমনি আমার মা এবং আমার বড় বোন সব সময় আমার পাশে ছিল।

ব্যবসা করতে গেলে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে হয়। কোথা থেকে গয়নার কাচামাল সংগ্রহ করবো? ডেলিভারি কিভাবে দিব? কোন কিছুই জানতাম না। অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ করে গেছি নিষ্ঠার সাথে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেলায় আমরা অংশগ্রহণ করতাম এবং ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষ আমাদের ভীষন ভাবে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছেন, আমাদের নানা রকম পরামর্শ দিয়েছেন, ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি পরম কৃতজ্ঞ আমরা।

আমাদের ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মত যারা শিক্ষার্থী তারা যেন তাদের শখ গুলো পূরণ করতে পারে। কারণ আমরা পণ্য গুলোর দাম নির্ধারণ করি তাদের কথা মাথায় রেখে।

পণ্যের মান এবং দাম দুটো রেখে আমরা ব্যবসা করে থাকি।

আমাদের গয়না গুলো সবসময় ইউনিক করার চেষ্টা করি। হ্যান্ডপেইন্টেড গয়নায় আনার চেষ্টা করি নতুনত্ব। কাঠ ও মেটালের তৈরী গয়নার মধ্যে রয়েছে নেকপিস, কানের দুল, চুড়ি, খোপার কাটা, পায়েল, নথ থেকে শুরু করে সব কিছু।

পার্টনার হিসেবে আমরা দুইজন দুজনকে সব সময় সাপোর্ট দিয়েছি। একজন ভেঙ্গে পরলে আরেকজন এগিয়ে এসেছে সহযোগিতা করতে।

আমাদের স্বপ্ন একদিন আমাদের একটি ব্র্যান্ড হবে। আমাদের ছোট্ট ফেসবুক পেইজটি একদিন বাংলাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই আমাদের পথ চলা।

হুমায়রা আনজীর ও নুসরাত জাহান মৌ

স্বত্বাধিকারী,

ব্যাসার্ধ

সম্পর্কিত নিউজ