উদ্যোক্তাদের গল্প

মাত্র ২’শ টাকায় শুরু আর এখন তানিয়ার পুঁজি অর্ধলাখ টাকা

একেবারেই গ্রামের মেয়ে তানিয়া সুলতানা। মাটির কাছেই বসবাস, আর গ্রামীণ পণ্য বিন্নি চাল, ফেলন ডাল, কালোজিরাচাল, নকশি কাঁথা নিয়েই তার উদ‌্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প।

মাত্র ২০০ টাকার পুঁজিতে অপ্রচলিত ‘চাল ভাজা’ পণ্য নিয়েই শুরু। এখন তার পুঁজির অংক প্রায় অর্ধলাখ টাকা। গ্রামে থেকেও ই-কমার্সের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরাও যে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার তানিয়া সুলতানা তার অনন্য উদাহরণ।

এক প্রশ্নের জবাবে তানিয়া সুলতানা বলেন, ৩ ভাই আর  ৫ বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দেউদিঘি ছড়ারকুল নামক গ্রামে তাদের বাড়ি। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা তানিয়ার বাড়িতে আর্থিক কোনো সমস্যা না থাকলেও বাবা বা ভাইদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চাননি তিনি। এজন‌্য নিজের খরচ নিজেই যোগানোর একটা মানসিক তাগাদা ছিলো তার। জ্ঞান হবার পর থেকেই তার চিন্তা ভাবনা এমনই ছিলো।

তানিয়া জানান, কলেজে পড়ার বিরতিতে বেশ কিছু ছাত্র/ছাত্রীকে প্রাইভেট (টিউশনি) পড়াতেন তিনি। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলে কলেজ, টিউশনি সবই বন্ধ হয়ে যায়। ঘরে বসে অলস সময় কাটানোর চেয়ে কিছু করার চেষ্টা করেন তিনি। এই সময় ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন ই-কমার্স গ্রুপ এবং উদ্যোক্তাদের নানামুখী সাফল্য দেখে উৎসাহিত হন তিনি। এরপর মাত্র ২০০ টাকা পুঁজিতে গ্রামের অপ্রচলিত পণ্য নিয়ে নিজেই শুরু করেন অনলাইন ব‌্যবসা।

হাতে থাকা মাত্র ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ব‌্যবসায় নামা তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘চাল ভাজা’ বিক্রির মাধ্যমে অনলাইনে ব‌্যবসা শুরু করি। ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্র ধরে গ্রাম থেকে নগরীতে এক ক্রেতাকে চাল ভাজা সরবরাহ করি। এরপর ক্রমে নিজের ব‌্যবসার পণ্য হিসেবে যুক্ত করতে থাকি গ্রামের বিন্নি চাল, কালোজিরা চাল, ফেলন ডাল, রাজমা, নকশি কাঁথা ইত্যাদি। আমার ফেসবুক পেজের নাম ‘ঘরোয়া তৈরি পণ্য’। এই ফেসবুক পেইজ থেকে প্রথমে একটি দুটি অর্ডার পেলেও এখন প্রতিমাসে শত শত অর্ডার সরবরাহ করি।’

নিজের সব খরচ নিজেই চালিয়ে নিতে পারছেন জানিয়ে তানিয়া জানান, ২০০ টাকায় শুরু করলেও এখন এই পুঁজি ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এই বিজনেসের আয় থেকেই নতুন বিনিয়োগ। এভাবেই বেড়েছে পুঁজি। এখন নিজের সব খরচ নিজেই চালিয়ে নিতে পারছেন তিনি। সবাইকে সময়ে সময়ে উপহারও দিতে পারছেন। পরিবারে মা, বাবা ভাই থেকে কোনো টাকা চাইতে হয় না। বরং অনলাইন ব‌্যবসার মাধ্যমে নিজের একটি পরিচিতি দাঁড়িয়ে গেছে।

তানিয়া সুলতানা আরও জানান, সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম নগরীতে তার ব‌্যবসার বিস্তৃতি। বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রামীণ পণ্যের অর্ডার পাচ্ছেন এবং সফলভাবে সরবরাহ করছেন।

শখের বসে ই-কমার্সে যুক্ত হলেও আগামী দিনে এই ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তানিয়ার। তানিয়া বলেন, ‘নিজের বিজনেস, নিজের আয়ের টাকা খরচ করার মধ্যে একটা অদ্ভুদ ভালো লাগা আর গৌরববোধ আছেই। গ্রামীণ পণ্য নিয়ে ই-কমার্সে আমার ভালোবাসা জন্মে গেছে। এই ভালোবাসা থেকেই নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার প্রাণান্ত প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান তানিয়া সুলতানা।’

সম্পর্কিত নিউজ