উদ্যোক্তাদের গল্প

শৌখিন গহনা কারিগর যুথিকা’র পথচলার গল্প 

ঢাকার মেয়ে আমি যুথিকা ভৌমিক নিপা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগ হতে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি একই বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যানরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি অনলাইন ভিত্তিক একটি বিজনেস প্লাটফর্ম। ‘প্রজন্ম ২৪’ কে তিনি তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প পাঠিয়েছেন।

যুথিকা বলেন, সবারই উদ্যোক্তা হবার পেছনে ছোট ছোট গল্প থাকে, যে গল্পে আছে হতাশা, শ্রম এরপর সফলতা। আমার গল্পের শুরুটা ছিল ঠিক এমন-

শখ নিয়ে সময় কাটাতে গিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছি। রঙ তুলির কাজ বরাবর ই আমার খুব পছন্দ। আগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ছোট ছোট মালা, হাতের রিং, সিঙ্গেল বালা এসব বানাতাম, নিজেরই পড়ার জন্য, কখনো কখনো শখের বসে গিফট ও করেছি খুব কাছের বান্ধুবীদের। কাজ গুলো দেখে যখন সবাই সুন্দর বলতো, ভালো লাগার কাজটাকে তখন থেকে সিরিয়াস ভাবে নেওয়া শুরু করলাম। যেহেতু চারুকলায় পড়ি, রঙ তুলি আমার কাছে ছিল। এরপর নোট করলাম আর কি কি লাগবে বা লাগতে পারে। আমি কোনো কাজ প্লান ছাড়া করতে পারিনা। আমার নিজস্ব একটা ডায়েরি থাকে, নিজের কাজের সুবিধার্থেই সেখানে সব টুকে রাখি। এরপর ডিপার্টমেন্ট থেকে যে বৃত্তির টাকা টা পাই, সেই টাকা দিয়েই শুরু করি আমার পেইজের কাজ।

বেশ কিছু কাজ করলাম, পেইজে ছবি দিলাম। আমার বান্ধুবীরা আমাকে অনেক হেল্প করেছে, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। পেইজ থেকে সেল, প্রথম তাদের মাধ্যমেই শুরু হয়, তার কয়েক মাস পরে আমাদের চারুকলায় প্রতিবছরের মতন জয়নুল মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিজ ডিপার্টমেন্ট এর স্টলেই আমি আমার কাজ গুলো দেই। সত্যি বলতে মেলায় অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। নিজের কাজ যখন কেউ কিনছে, অবশ্যই তাদের ভালো লাগার জায়গা থেকেই তারা কিনছে, তার মানে আমি কিছুটা হলেও পেরেছি, আমি আরও কাজ করব, পেইজ টা কে আরও বড় করতে চাই, এই জিনিস গুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। মেলা ছিল তিন দিন, এই তিন দিনে আমার ৪/৫ টা প্রোডাক্ট বাদে সব সেল হয়ে যায়। আর এটার জন্যই নিজের উপর বিশ্বাসের জায়গাটা আরও পাকাপোক্ত হয়। এভাবে আস্তে আস্তে আমার পেইজে কাজ করা শুরু করলাম।

এবার আসি ফ্যামিলির কথা নিয়ে। আমার মা আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে। জুয়েলারি বানাচ্ছি, মালার জন্য একা সুতা বাধতে পারতাম না, মা হেল্প করত,এখনো করে। একটা কাজ শুরু করার জন্য সাপোর্ট দেয়, এমন কেউ থাকাটা খুব জরুরী।

পেইজের নাম নিয়ে একটু কনফিউজড ছিলাম, মন মতন নাম খুজছিলাম। পরে অনেক ভেবে মনে হলো নিজের ভালো লাগা, আর শখের জায়গা টার নাম নিজের নামেই হোক, “যুথিকা” নাম টা আমার বাবার দেওয়া, আর এই নামটা আমার খুব পছন্দের। আমার নামেই আমার পরিচিতি বেড়ে উঠুক।

আমার প্রচন্ড অনলাইন ভীতি ছিল, কিভাবে কি করব, প্রোডাক্ট পাঠাবো কিভাবে? কাঠের জিনিস, হাতে তৈরী তাই প্যাকেজিং টাও বেশ ইম্পরট্যান্ট ছিল, সব মিলিয়ে সবার সহযোগিতায় আমি পেরেছি। আমি আবারও তাদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে হেল্প করেছে,সাপোর্ট করেছে, তারা না থাকলে পেইজের পথচলা একটু কঠিন-ই হয়ে যেত।

সেই ভয়কে কাটিয়ে উঠে আমি আমার নিজস্ব পেইজ তৈরী করেছি।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমি আমার নামের পরিচিতিতে একটা ব্রান্ড তৈরী করতে পারি।

যুথিকা ভৌমিক নিপা

স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার,

“Jothika-যুথিকা”

সম্পর্কিত নিউজ